পৃথিবীতে এমন কোন ধর্মগ্রন্থ নেই যেখানে হযরত মুহাম্মদ (সা) এর কথা ভবিষ‌্যদ্বাণী করা হয়নি । হিন্দুধর্ম সম্প্রদায়ের প্রধান ধর্মগ্রন্থের নাম বেদ । বেদ এবং অন‌্যান‌্য হিন্দু ধর্মগ্রন্থে অসংখ‌্যবার হুজুর (সা) এর কথা বলা হয়েছে । তাকে বলা হয়েছে তিনি হলেন মামা ঋষি বা শেষ ঋষি । তাঁর নাম বলা হয়েছে ‘নরসংসা’ (আহমেদ নামেও তাকে ডাকা হয়েছে) । এটি একটি সাংস্কৃতি শব্দ, নর হলো , মানুষ ‍আর সংসা হলো প্রশংসার যোগ‌্য । অর্থাৎ এমন একজন মানুষ যিনি প্রশংসার যোগ‌্য । এই নরসংসা কে ইংরেজি করলে হয়, A man who is praiseworthy . আর নরসংসাকে হুবহু আরবি করলে হয়, ‘মুহাম্মদ (সা) । আরও বলা হয়েছে তাঁর পিতার নাম ‘ব্নিুইয়াস’ এটিরও হুবহু আরবি করলে দাঁড়ায় ‘আবদুল্লাহ’ যা ছিলো হুজুর (সা) এর পিতার নাম । তার মাতার নাম বলা হয়েছে ‘সুমতি’ যার হুবহু আরবি করলে দারায় ‘আমেনা’ যা ছিলো  ‍হুজুরের মার নাম । হিন্দু ধর্মগ্রন্থগুলোতে বিভিন্ন জায়গায় অসংখ‌্যবার  হুজুর (সা) এর কথা বভিষ‌্যদ্বাণী করা হয়েছে  ।

বাইবেলেও অসংখ‌্যবার রাসূল (সা) এর কথা বলা হয়েছে । ওল্ড টেস্টামেন্ট বুক অফ ডিটরোনমি অধ‌্যায় ১৮, ভার্সতে, আল্লাহ তায়ালা মূসা (আ)-কে বলছেন , ‘আমি তোমার ভ্রাতাদিগের মধ‌্য থেকে আরেকজন নবী আনবো যে হবে তোমারি মতন । আর সে নিজে কিছু বলবে না, আমি যা তাকে বলতে বলবো সে শুধু তাই বলবে ।’ বুক অফ আইজাহা অধ‌্যায় ১৯ ভার্স নাম্বার ১২, তে বলা হয়েছে, ‘এবং কিতাবখানি নাযিল করা হবে তাঁর ওপর যিনি নিরক্ষর । তাকে বলা হবে পড় তোমার প্রভুর নামে, সে বলবে আমি তো পড়তে জানি না, আমি নিরক্ষর ।

সম্মানিতদের সেরা তিনি

আল্লাহ তা‘আলা কুরআন শরিফে তাঁর হাবিবকে অতি সম্মানের সঙ্গে সম্বোধন করেছেন । নবী –রাসূল মুয‌্যাম্মিল ও মুদ্দাচ্ছির ইত‌্যাদি উপাধি ব‌্যতীত কোথাও ‘ইয়া মুহাম্মদ’ তাঁর নাম নিয়ে আহবান করেননি তাঁর দুশমনদের দুর্ব‌্যবহার ও কটূক্তির উত্তর আল্লাহ্ পাক স্বয়ং দিয়েছেন, “তাব্বাত ইয়াদা আবি লাহাব’-ধ্বংস হোক আবু লাহাবের দু’হাত । ‘ইন্ন শানিয়াকা হুয়াল আবতার’- ‘নিশ্চয় তোমার প্রতি বিদ্বেষ পোষণকারীই তো নির্বংশ’ । ‘মা ওয়াদ্দা আকা রাব্বুকা ওয়ামা কালা’ তোমার প্রতিপালক তোমাকে ত‌্যাগ করেননি এবং তোমার প্রতি বিরূপও হননি’ ইত‌্যাদি আয়াতে এর প্রমাণ রয়েছে ।

সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব, মানবতার বন্ধু মুহাম্মদ (সা) অতি অল্প সময়ে পৃথিবীতে যে বিপ্লব আদর্শ প্রতিষ্ঠা করলেন, সেখানে বর্ণ ও গোত্রের ভেদাভেদ নেই, নেই কোন স্বজনপ্রীতি, নেই দলের লোকদের কোন ছাড় । ইনসাফের বেলায়, নাগরিক অধিকারের বেলায় সবাই সমান । তিনি প্রতিষ্ঠা করলেন একটি আল্লাহ –ভীরু সমাজ, আখেরাতে বিশ্বাসী আল্লাহপ্রেমিক জিহাদি দল; যাঁরা দ্বীনের ব‌্যাপারে কাউকে ভয় করেন না । সত‌্যের ওপর যারা অটল । ন‌্যায়বিচার , সাম‌্য, সদ্ব‌্যবহার, জনসেবা, আল্লাহর বন্দেগিতে সদা মশগুল; তাওহিদের ওপর অটল, শিরক-বিদআত থেকে সম্পূর্ণ মুক্তমনা । যারা নবী পাকের জিন্দেগিকে অনুসরণ করছে তারাই পৃথিবীর মানুষকে মানবজাতিকে আলোকবর্তিকরূপে কাজ করে-দেখিয়েছেন সত‌্যের সেরা রাজপথ । আসুন মুহাম্মদ (সা) জীবনাদর্শ অনুসরণ করে একটি কল‌্যাণকর, সুখী সমৃদ্ধশালী ও শান্তিময় বিশ্ব গড়ে তুলি । ব‌্যক্তি, পারিবার ও সমাজকে আলোকিত করি ।

এ জন‌্য জর্জ বার্নার্ড ‘শ তাঁর `Getting Merred ’ গ্রন্থে লিখতে বাধ‌্য হয়েছেন –

“if all the world was to be united under one leader then Muhammad (S.M) would have been the best fitted man to lead the people of various needs dogmas and ideas to peace and happiness”