মহান আল্লাহর ঘোষণা – (সূরা হুজরাত – ১২ ) অনুবাদঃ

তোমরা এক অপরের গীবত (নিন্দাবাদ) করনা । তোমাদের কেউ কি তার মৃত ভ্রাতার গোশত খেতে পছন্দ করবে ? বস্তুত: তোমরা এটাকে ঘৃণাই কর । আল্লাহ তায়ালাকে ভয় কর । নিশ্চয়ই আল্লাহ তওবা কবুলকারী ও পরম দয়ালু ।

ঘটনাবলীঃ

হযরত রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মি’রাজ রাতে ভ্রমণ কালে একদল লোকের সাক্ষাত পেলেন যারা নিজেদের শরীরের গোশত কেটে কেটে ভক্ষণ করতেছে । আমি এ দৃশ‌্য দেখে হযরত জিব্রাইল আমীন কে জিজ্ঞেস করলাম এরা কারা ? তদুত্তরে বললেন, এরা গীবতকারী ও পরনিন্দাকারী । (নুজহাতুল মাজালিস ১/১৪৭ পৃ)

হযরত দাউদ তায়ী (রহঃ) একদা রাস্তা অতিক্রম করতে ছিলেন । হঠাৎ একটি কথা স্মরণ করে বেঁহুশ হয়ে ভূমিতে লুটিয়ে পড়েন । সেখানহতে লোকজন তাকে তার নিজ গ্রামে নিয়ে গেলেন । জ্ঞান ফিরে আসার পর বেহুঁশ হবার কারণ কি জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বললেন, আমি ওখানকার জনৈক ব‌্যক্তি গীবত করেছিলাম । মনে পড়ল ইনি আল্লাহ তায়ালার নিকট যদি আমার ঐ গীবতের বিচারপ্রার্থী হন তখন আমি উত্তরে কি বলব এ চিন্তা করেই আমি বেঁহুশ হয়ে পড়ি ।

 

হযরত ঈসা (আঃ) দেখলেন, ইবলিস শয়তানের এক হাতে মধু অপর হাতে ছাই রয়েছে । তিনি উহার কারণ জিজ্ঞেস করলেন । তদুত্তরে শয়তান বলল, যারা গীবত করে তাদের ঠোটে মধু লাগিয়ে দেই । আর যারা ইয়াতীম তাদের মুখে ছাই নিক্ষেপ করি । যারা ফলে তাদের চোখে ময়লা বা কেতর আসে । এর কারণে মানুষ ইয়াতীমগণকে ঘৃণার নজরে দেখে ও ভালবাসে না । (নুজহাতুল মাজালিস ১/১৪৮পৃঃ)

 

বর্ণিত আছে , হযরত হাসান বসরী (রহঃ) এর নিকট এক ব‌্যক্তি এসে বলল, হুযুর ওমুকের পুত্র আপনার সম্পর্কে গীবত করে বেড়াচ্ছে । তা’শুনে তিনি ঐ গীবতকারীর নিকট এক পাত্র তাজা খেজুর পাঠালেন ও বললেন, আমি শুনলাম আপনি নাকি আমাকে কিছু নেকী হাদিয়া পাঠিয়েছেন । তাই মনে মনে ভাবলাম ঐ হাদিয়ার বিনিময় পাঠান অত‌্যাবশ‌্যক ।

হযরত আছম (রহঃ) বলেছেন ,গীবতকারী ও চোগলখোর দোযখের বানর হবে, মিথ‌্যুকরা দোযখের কুকুর হবে । হিংসুকরা দোযখের শুকর হবে ।

 

 

সুদের লেনদেন

 

মহান আল্লাহ তায়ালা এরশাদ করেছেন –

(সূরা বাকারা ২৭৮ ও ২৭৯ ) অনুবাদঃ মহান আল্লাহর বাণী হে ঈমানদারগণ ! তোমরা  আল্লাহ তায়ালাকে ভয় কর এবং সুদের যে অংশ বকেয়া আছে তা পরিত‌্যাগ কর , যদি তোমরা ঈমানদার হয়ে থাক । অতঃপর যদি তোমরা তা পরিত‌্যাগ না কর তাহলে আল্লাহ পাক তদীয় রাসূলের সাথে যুদ্ধ করার জন‌্য প্রস্তুত হও । আর যদি তোমরা তওবা কর তবে তোমরা মূলধনের অধিকারী হবে । তোমরা কারো প্রতি অত‌্যাচার করবেনা এবং অত‌্যাচারিতও হবেনা ।

 

অনুবাদঃ হযরত আব্দুল্লাহ বিন মাসঊদ (রাঃ) হতে বির্ণত , হযরত রাসূল মাকবুল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আল্লাহ পাক সুদখোর, সুদদাতা সাক্ষী ও সুদ লিখককে লানত করেছেন তথা তাঁর রহমত হতে দূরীভূত করে দিয়েছেন । (তিরমিযী শরীফ ১/২২৯ পৃঃ)

ঘটনাবলীঃ

হযরত রাসূল ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন, আমি মি’রাজ রাতে এমন কত লোক দেখলাম যাদের পেট খুব বড় । ইতিপূর্বে আমি এমন ধরনের লোক দেখতে পাইনি ।

অন‌্য এক হাদীছ শরীফের বর্ণনায় এসেছে সুদখোরের পেট ঘরের কামরা সমতূল‌্য । যার মধ‌্যে রয়েছে অসংখ‌্যা সাপ । পেটের বহিরাগত অংশের উপর দিয়ে ফেরাউন গোষ্ঠির চলাচল রাস্তা । পিপাসিত উট যেরূপ দ্রুত গতিতে পানি পান করার জন‌্য চলে ফেরাউন সুদখোরদের পেটের উপর দিয়ে তদ্রূপ দ্রুত গতিতে চলছে । (সীরাতে হালাবিয়া১/৪৩০)

অন‌্য এক হাদীছ শরীফে উল্লেখ আছে, হুযুর ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম মি’রাজ রাতে এক ব‌্যক্তিকে রক্তের নদীতে সাঁতার কাটতে দেখেছেন । যখন ঐ লোকটি সাতার কেটে পাড়ে উঠতে চায় এমন সময় কুল হতে অন‌্য এক ব‌্যক্তি পাথর মেরে তাকে রক্তের নদীতে ফেলে দেয় । তা’দেখে হুযুর ছাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম জিবরাইল (আঃ) কে ঐ ব‌্যক্তির পরিচয় জিজ্ঞেস করায় তিনি বললেন, ঐ লোকটি সুদখোর । যিনি পাথর মারেন তিনি হলেন ফেরেশতা । রোজ কিয়ামত পর্যন্ত সে এরূপ শাস্তি পেতে থাকবে । (সীরাতে হালাবিয়া ১/৪৩২ পৃঃ)