পৃথিবীর সব চেয়ে ধনী দেশ বাংলাদেশ ও সেদিনের সমৃদ্ধ বাংলাদেশ

বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বের অন‌্যতম দরিদ্র দেশ । ইংরেজ বেনিয়াদের দুইশত বছরের শোষণ, সাম্রাজ‌্যবাদী ষড়যন্ত্র ও অর্থনৈতিক উপনিবেশিকতার শিকার হয়ে বাংলা পঙ্গু হয়ে গেছে । অথচ এক সময় পৃথিবীর অন‌্যতম ধনী অঞ্চল ছিল বাংলা স্মরণাতীত কাল হতে পর্যটকগণ নানা দেশ ভ্রমণ করে সবচেয়ে ধনী দেশ হিসেবে বাংলাকে চিহ্নিত করেন । সেই প্রাচীনকালে খ্রিষ্টপূর্বে রোমান কবি ওভিদ , গ্রীক পণ্ডিত টলেমী, গ্রীক পর্যটক মেগাস্থিনিস; খ্রিষ্টীয় ৪র্থ শতাব্দীতে চৈনিক পর্যটক ফাহিয়েন , ৭ম শতাব্দীর হিউয়েন সাং , ১৪শ শতাব্দীতে ইবনে বতুতা, ১৫শ শতাব্দীর চৈনিক পর্যটক মাহুয়ান, জিয়াউদ্দিন বারানীসহ বিভিন্ন ঐতিহাসিক ও পর্যটকদের বর্ণনায় এসব জানা যায় । প্রথম পদার্পনেই সম্রাট হুমায়ুন অবাক বিস্ময়ে এর নাম দেন জান্নাতাবাদ, প্রেমে পড়ে যান এ অঞ্চলের ।

সেসময় চীন থেকে মিশর পর্যন্ত বিশ্বের বিভিন্ন দেশে বাংলার মসলিনসহ রেশমপণ‌্য , মৃৎ ও ধাতবপাত্র, মাদুর-মাটি, অলঙ্কার , শাঁখা, বনজ ঔষধ, সোরা, (বারুদ উপকরন) , গুড়সহ অসংখ‌্য পণ‌্য রপ্তানি হতো । এ ধরনের সমৃদ্ধ দেশের অর্থ সম্পদ লুট করেই দরিদ্র-পশ্চাদপদ ইউরোপ ধনাঢ‌্য ইউরোপে পরিণিত হয় । তাদের সভ‌্যতা বিকশিত হয় আমাদের অর্থসম্পদ গ্রাস করেই ।

 

মহাদুর্ভিক্ষ

সমৃদ্ধ বাংলাদেশের হাজার বছরের ইতিহাসে মানবসৃষ্ট তিনটি দুর্ভিক্ষই ছিল নজিরবিহীন । যথা –

১। ১৭৭০ (১১৭৬ বাংলা) :- ছিয়াত্তরের মন্বন্তর নামে খ‌্যাত পৃথিবীর ইতিহাসে মানবসৃষ্ট সবচেয়ে ভয়াবহতম এই দুর্ভিক্ষে বাংলার এক তৃতীয়াংশেরও বেশি লোক মারা যায় । নব প্রতিষ্ঠিত ইংরেজ শাসনকে পাকাপোক্ত করাই ছিল এ দুর্ভিক্ষের কারণ ।

২। ১৯৪২ – ৪৩ (১৩৫০ বাংলা) : – পঞ্চাশের মন্বন্তর নামে খ‌্যাত এই দুর্ভিক্ষ বাংলার প্রায় ৩৫-৪০ লক্ষ লোক মারা যায় । দ্বিতীয় মহাযুদ্ধে বার্মা হয়ে জাপানি বাহিনীর প্রবেশ ঠেকাতে কৌশল হিসিবে এই ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ বেছে নেয় ইংরেজ সরকার ।

৩। ১৯৭৪খ্রি. বন‌্যাকে উপলক্ষ করে লুটপাট , কালোবাজারী , মজুদদারীর মাধ‌্যমে সৃষ্ট  কৃত্রিম এই দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশের বিপুলসংখ‌্যক লোক মারা যায় । পঞ্চাশের মন্বন্তর ও ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের ওপর গবেষণা করে, তত্ত্ব দিয়ে অর্থনীতিতে নোবেল পুরস্কার পান অমর্ত‌্য সেন ।