জীবনপঞ্জিঃ মক্কার নবুয়‌্যাত কাল (১৩ বছর)

৬১০ খ্রি. ১৭ আগস্ট , ২১ রমজান সোমবার রাতে হেরা  ‍গুহায় প্রথম প্রত‌্যক্ষ অহি লাভ । তখন বয়স ছিল ৪০ বছর ৩ মাস ১২ দিন । ঠিক ৪০ বছর বয়স থেকে স্বপ্নের মাধ‌্যমে নবুয়্যাত এর নিদর্শন পাওয়া শুরু ।

৬১০ – ৬১৩ খ্রি. গোপনে ইসলাম প্রচার , ৩ বছরে ৪০ থেকে ৫২ জনের ইসলাম গ্রহণ । সকাল –সন্ধ‌্যায় ২ বার নামাজের নির্দেশ ।

৬১৩ খ্রি. ৩য় নবুওয়াতবর্ষ , জুন মাসে প্রকাশ‌্যে ইসলাম প্রচারের নির্দেশ (১৫:৯৪) । প্রথমে নিকট আত্মীয়দের ২টি জমায়েতে দাওয়াত দান ও আবু তালেবের নিটক কুরাইশদের বিচার প্রার্থনা, ব‌্যর্থ হওয়ায় প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত ।

৬১৩ খ্রি. ৪র্থ নবুয়াতবর্ষ, সেপ্টেম্বর মাসের শেষে হজের মৌসুমে হাজীদের নিকট কুরাইশদের বিরুদ্ধ প্রচারণা ও তাদের বিমুখ করার চেষ্টা । হজ শেষে সম্মিলিত ও চতুর্মখী প্রতিরোধের সিদ্ধান্ত । প্রথমত : ঠাট্টা, বিদ্রুপ, উপহাস, গালাগালি; দ্বিতীয়ত : বিকৃত বর্ণনা, সন্দেহ সৃষ্টি , মিথ‌্যা প্রোপাগান্ডা চালানো; তৃতীয়ত : কুরআনের বিপরীতে কাহিনী বর্ণনা ও যৌন প্রলোভন প্রদান, সবশেষে সমন্বয় সাধনের প্রস্তাব ।

৬১৪ খ্রি. জুলুম নির্যাতন শুরু । রজব মাসে আবিসিনিয়াতে ১৬ জন মুসলমানদের প্রথম হিজরত । তারপর ৮৩ জনের হিজরত ।

৬১৫ খ্রি. ৫ম নবুয়তবর্ষ । আবু জেহেল কর্তৃক সাফা পাহাড়ে ধ‌্যানরত রাসূল (সা) এর মাথায় প্রস্তরাঘাত । এতে চাচা হামজা কাবায় প্রবেশ করে আবু জাহেল কে শাস্তি দান ও ইসলাম গ্রহণ ।

৬১৫ খ্রি. বীর উমর (রা) এর ২৭ বছর বয়সে ইসলাম গ্রহণ ।

৬১৬ – ৬১৯ খ্রি. কুরাইশদের সামগ্রিক  সামাজিক বয়কট ।

৬১৯ খ্রি. বয়কট অবসানের কিছুদিন পর নবুওয়াতের ১০ম বর্ষে রজব মাসে চাচা আবু তালিব (৮০) ও রমজান মাসে হযরত খাদিজার (৬৫) ইন্তেকাল । শাওয়াল মাসে সাওদা বিনতে যামআকে বিয়ে । আবু যার গিফারীর ইসলাম গ্রহণ । যায়েদ (রা) কে নিয়ে মক্কার ৬০ মাইল দক্ষিণে তায়েফে ইসলাম প্রচারের জন‌্য গমন এবং নির্মম অত‌্যাচারের শিকার ।

৬২০ খ্রি. ১১শ নবুওয়াত বর্ষের ২৭ রজব ৪র্থ বার বক্ষ বিদীর্ণ । মিারাজে গমন এবং ৫ ওয়াক্ত নামাজ ফরযের বিধান ।

৬২০ খ্রি. ১১শ বর্ষে শাওয়াল মাসে আবু বকরের কন‌্যা আয়েশা (রা) – কে বিবাহ । হজ্জ মৌসুমে হাজীদের মধ‌্যে ইসলামের বাণী প্রচার । মদীনার খাজরাজ গোত্রের ৬ জনের ইসলাম ধর্ম গ্রহণ ।

৬২১ খ্রি. হজ্জ মৌসুমে ১২ জন মদীনাবাসীর আকাবার ১ম শপথ ।

৬২২ খ্রি. ১৪ সেপ্টেম্বর শনিবার, মুহাম্মদ (সা) হিজরত করলে শিকার হাতছাড়া হয়ে যাবে এ আশঙ্কায় আবু জেহেল সকল গোত্রের একজন যুবক নিয়ে ‘হত‌্যাকারী সংঘ’ গঠন করে একত্রে তরবারির আঘাতে মহানবী (সা) কে হত‌্যার ষড়যন্ত্র করে । কিন্তু মহানবী (সা) শুধুমাত্র মানুষের আমানত ফিরিয়ে দেয়ার জন‌্যে হযরত আলীকে রেখে সকলের অগোচরে আবু বকর (রা) কে সাথে নিয়ে মদীনায় হিজরতের উদ্দেশ‌্যে রওয়ানা দেন ।

 

মক্কার উল্লেখযোগ‌্য ঘটনাসমূহ

 

চারাবার বক্ষ বিদীর্ণ : মোট ৪ বার আল্লাহ তায়ালা হযরত জিবরাঈল ও মিকাইলকে পাঠিয়েছেন রাসূল (সা) এর বক্ষ বিদীর্ণ করার জন‌্য । তাঁরা রাসূল (সা) এর হৃদপিণ্ডের অপবিত্র অংশ ফেলে দিয়ে জমজমের পানি দিয়ে ধুয়ে যথাস্থানে স্থাপন করতেন ।  যেমন –

১ম বারঃ হালিমার কাছে অবস্থানকালে চারণ ভূমিতে ৪ বছর বয়সে সংঘঠিত হয় । তারা এক খণ্ড কাল জমাট রক্ত ফেলে দিয়ে বলেন – এটাই শয়তানী স্বভাব গ্রহণের ও সমস্ত পাপের উৎস ।

২য় বারঃ দশ বৎসর বয়সে মক্কার এক মরু মাঠে ফেরেশতাদ্বয় হৃদপিণ্ডের মধ‌্য হতে জমাট বাধা কিছু রক্ত ফেলে দিয়ে হিংসা-বিদ্বেষ ও ঘৃণার পদার্থগুলোর পরিবর্তে স্নেহ-ভালবাসা বৃদ্ধির জন‌্য কোমল এক পদার্থ রেখে দেন ।

৩য় বারঃ নবুওয়ত প্রাপ্তির পূর্বক্ষণে ৪০ বছর বয়সে হেরা গুহায় । এতে তিনি নবুওয়াতের মহান দায়িত্ব পালনের উপযুক্ত হন ।

৪র্থ বারঃ মিরাজের যাওয়ার প্রাক্কালে শেষ বারের মতো জমজম কূপের নিকট বক্ষ বিদীর্ণ করে তাঁর হৃদয় ঈমান ও হিকমতে পরিপূর্ণ করে দেয়া হয় ।